দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনে বরিশাল–পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু না হওয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কর্মকর্তার কাছে জবাব চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সওজ কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় লিখিত প্রতিশ্রুতির পরও কাজের অগ্রগতি না হওয়া নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ ও আলোর ব্যবস্থা নিয়ে সওজের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি। এমনকি সড়কের গর্তগুলো নিয়মিত সংস্কারের কথা বলা হলেও একবার বিটুমিন দেওয়ার পর আর তেমন কোনো কাজ হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট বাংলা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত দপদপিয়া সেতু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ওই ঘটনার পর মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম কয়েকটি বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা সংস্কার, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাই করার কথা ছিল। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা এবং কাজের অগ্রগতি তদারকিতে সওজ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল গঠনের কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিশ্রুতির পর গর্তে একবার বিটুমিন দেওয়া ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান সংস্কারকাজ হয়নি।
মঙ্গলবার দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত সড়ক ঘুরে বিভিন্ন স্থানে গর্ত দেখা যায়। দপদপিয়া সেতুর ওপরও কয়েকটি বড় গর্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে সড়কের পাশে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে এ সড়কে অন্তত পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, ‘১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে আরসিসি ঢালাই ও আলোর ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের দরপত্রই হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে কাজ শুরু হবে, সেটিই আমরা জানতে এসেছি।’
আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, গর্ত তৈরি হলে তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একবার বিটুমিন দেওয়ার পর আর কাজ হয়নি। তার ভাষ্য, সড়কটির দুরবস্থার কারণে এর আগে দুর্ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নিশ্চয়তা চান তারা।
তবে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত, আরসিসি সড়ক ও আলোর ব্যবস্থার বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা যাবে।
যে আই